১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবেদক: লামিসা সানজানা
শৈশবের কল্পনা আর মনের হরেক রঙের সঙ্গে কোনো কিছুরই মেলানো যায় না, তুলনা হয় না। শিশুরা এক অপরূপ দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীকে দেখে, অনুভব করে। তাদের নিষ্পাপ মন ও উন্মুক্ত মানসিকতা সবকিছুকে আরও সুন্দর ও রঙিন করে তোলে। শৈশবের সেই রংতুলিতে মেতে উঠেছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার প্রাঙ্গণ।
৪ আগস্ট, শুক্রবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় দোলন শিশু-কিশোর পত্রিকা আয়োজিত ‘এস এম সুলতান জন্মশতবার্ষিকী দোলন ছবি আঁকা উৎসব ২০২৬’। উৎসবের প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক বীরেন সোম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী ও শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ-এর এ. এফ. এম. মনিরুজ্জামান শিপু এবং শিল্পী ও সংগঠক সুজন মাহাবুব।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দোলন শিশু-কিশোর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামাল মুস্তাফা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম।
প্রায় আড়াইশ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ বায়োস্কোপ প্রদর্শনী। এতে বাংলার গ্রামীণ জীবন ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলার দৃশ্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও।
ছবি আঁকার পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে ছিল বইয়ের স্টল, হাতে তৈরি গহনার স্টল এবং খাবার ও পানীয়ের আয়োজন। দুপুর দেড়টা থেকেই শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের আনাগোনা শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় নিবন্ধন কার্যক্রম। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে।
তিনটি বিভাগে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতায় প্রতি বিভাগ থেকে পাঁচজন করে মোট ১৫ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারী শিশুকে দেওয়া হয় সনদপত্র।
বেশ পরিপাটি ও সুশৃঙ্খলভাবেই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। শিশুরা তাদের কল্পনার রঙে রাঙিয়ে তোলে পুরো বিকেল। নির্ধারিত কোনো বিষয় না থাকায় প্রত্যেকের কল্পনার ভিন্ন ভিন্ন রূপ প্রকাশ পায়। আর এখানেই যেন উৎসবটির সার্থকতা।
বর্তমানে পড়ালেখার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অতিরিক্ত নির্ভরশীল এই প্রজন্মের জন্য এমন আয়োজন যেন শুষ্ক ডালে দু’ফোঁটা বৃষ্টির সজীবতা। এ ধরনের আয়োজন শিশুকিশোরদের মোবাইলনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক, আন্তরিক ও মানবিক হয়ে উঠতেও উৎসাহিত করে। সর্বোপরি, সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের এমন সুযোগ তাদের শৈশবকে করে তোলে আরও রঙিন ও অর্থবহ।











