পানি মানবদেহের প্রতিটি কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। পুষ্টি পরিবহন থেকে শুরু করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুর সঠিক কাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন।
১. মুড বা মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে :
পানি কম থাকলে ক্লান্তি ও বিরক্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। ২০১৯ সালের কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর পুনরায় হাইড্রেট হলে মুড ও এনার্জি লেভেল বাড়ে। তাই সকালে পানি পান করা দিনব্যাপী স্থিতিশীল মুড বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে :
অনেকে বলেন, সকালে পানি পান ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। এর কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ হলো—
খাবারের আগে পানি খেলে পেট তাড়াতাড়ি ভরে, ফলে ক্যালোরি গ্রহণ কমে।
চিনি বা মিষ্টি পানীয়ের বদলে পানি পান করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি বাঁচে।
ঠান্ডা পানি শরীর গরম করতে বাড়তি ক্যালোরি খরচ হয় (থার্মোজেনেসিস)।
যদিও শুধুই পানি পান করে ওজন কমবে না, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এটি সহায়ক হতে পারে।
৩. ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে
যথেষ্ট পানি গ্রহণ ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং স্কিন ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী করে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পানি বাড়ালে ত্বকের হাইড্রেশন কিছুটা উন্নত হয়। তবে শুধু পানি খেলেই বলিরেখা কমে—এমন প্রমাণ নেই। ত্বক ভালো রাখতে পানি ছাড়াও সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা, সুষম খাবার ও স্কিনকেয়ার জরুরি।
৪. দেহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজেও সহায়তা করে :
কিডনি: বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে।
মূত্রনালি: যথেষ্ট পানি ইউটিআই প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদযন্ত্র: রক্তচাপ ও রক্তনালীর সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
জয়েন্ট: জয়েন্টে থাকা লুব্রিকেশন তরলের বড় অংশই পানি, যা চলাফেরা আরামদায়ক করে।
৫. মানসিক সতর্কতা বাড়ায় :
ডিহাইড্রেশন হলে মনোযোগ, স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি কমে যায়—এমন প্রমাণ বহু গবেষণায় পাওয়া গেছে। আবার পানি পান করলে এসব সক্ষমতা উন্নত হয়। দিনের শুরুটা পানি দিয়ে করলে মন সতেজ থাকে।
– তাসফিয়া আলম





