ইভেন্ট নিউজ

আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ এর ঢাকা ডিভিশনাল অ্যাম্বাসেডর মিটআপ।

“আইসিটিতে দক্ষ দক্ষ” প্রতিশ্রুতিতে শেষ হলো আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ এর ঢাকা ডিভিশনাল অ্যাম্বাসেডর মিটআপ।

আইসিটি অলিম্পিয়াড হলো শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জগতে দক্ষ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা, যেন তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। এই অলিম্পিয়াড শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি শিক্ষাভিত্তিক আন্দোলন, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিকে বোঝা, ব্যবহার করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন কিছু সৃষ্টি করার অনুপ্রেরণা দেয়। এখানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং, অ্যালগরিদমিক চিন্তাভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নৈতিকতা সম্পর্কে গভীর ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করে, যা তাদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের দক্ষতাও বাড়িয়ে তোলে।
আইসিটি অলিম্পিয়াডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তোলা। প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের এমন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হয়, যা তাদের চিন্তাকে আরও গভীর, বিশ্লেষণধর্মী ও ভবিষ্যতনির্ভর করে তোলে। দলগত কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নেতৃত্বগুণ, সহযোগিতা, শৃঙ্খলা এবং সময় ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা অর্জন করে, যা একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আইসিটি অলিম্পিয়াড তরুণদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়—নিজেদের মেধা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও বিশ্বের জন্য কিছু করার স্বপ্ন। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ারের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে এবং একটি দক্ষ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। ফলে স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল সমাজ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে আইসিটি অলিম্পিয়াড একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ঢাকার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে “ডিভিশনাল অ্যাম্বাসেডর মিটআপ, ঢাকা”। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ।

একটাই লক্ষ্য হতে হবে আইসিটিতে দক্ষ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত মিটআপে অংশগ্রহণ করেন আইসিটি অলিম্পিয়াডের অ্যাম্বাসেডর, লিডার ও নেটওয়ার্ক ক্লাবের সদস্যরা। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন এবং প্রাণবন্ত নেটওয়ার্কিং সেশন।

অনুষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল নেক্সফ্লাই, মাইন্ড শেপার্স, মাই ব্র্যান্ড স্টোরি এবং অনলাইন পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ট্রিবিউন।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান – প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ
মোঃ আবদুর রহমান নিপু – সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও চিফ অপারেটিং অফিসার
এ. এইচ. আলী – ডিজিটাল মার্কেটার, ইউটিউব ও এআই কনটেন্ট ক্রিয়েটর
মুন হীরা – সাইকোলজিস্ট, মাইন্ড শেপার্স
মোঃ ফেরদৌস হোসাইন – এক্সিকিউটিভ অপারেশন, নেক্সফ্লাই
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাক্ষর সাহা এবং সেন্ট্রাল টিমের সদস্যবৃন্দ।
বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান দেশের আইসিটি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা ও উদ্ভাবনী মানসিকতায় গড়ে তুলতে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিওও মোঃ আবদুর রহমান নিপু নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনায় বলেন, শক্তিশালী লিডারশিপ, টিমওয়ার্ক এবং দায়িত্বশীলতা ছাড়া টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
প্রজেক্ট ম্যানেজার সাক্ষর সাহা অংশগ্রহণকারী সকল অ্যাম্বাসেডর ও লিডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
“একটাই লক্ষ্য হতে হবে আইসিটিতে দক্ষ” — এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে ঢাকা ডিভিশনাল মিটআপের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

– ফাতেমা বিনতে সেলিম