জানার আছে অনেক কিছু

খাবারে ফরমালিনের তীব্রতা কমানোর সহজ উপায় কি? 

শীত পড়তেই বাজারগুলিতে এখন মরশুমি ফলের ভিড়। আপেল থেকে কমলালেবু, বেদানা থেকে নাসপাতি। কমবেশি সবাই এই সময় নানা ধরণের মৌসুমী ফল কিনে থলে বোঝাই করে বাজার থেকে ফেরেন।কিন্তু এই সব নানা ধরণের ফলেই যে লুকিয়ে থাকে চরম ক্ষতিকর বিষের সমান কেমিক্যাল।  ফলে লাগানো এক ধরণের রাসায়নিক কিন্তু শরীরের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এক ধরণের অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভের জন্য ফরমালিনমুক্ত ফল বলেই বিক্রি করে থাকেন এই রাসায়নিক দেওয়া ফল। সাদা চোখে দেখে বোঝার উপায় থাকে না এই ফলগুলি আদৌ কী পরিমাণ ক্ষতি সাধন করতে পারে শরীরের জন্য। সাধারণত এই ধরণের ফলগুলি দীর্ঘ সময় টাটকা দেখাতেই ফলে মেশানো হয় বিশেষ ধরণের এক কেমিক্যাল। আমরাও একপ্রকার বাধ্য হয়ে কিনে খাই সেই ফল। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটু সচেতন হলে ফলমূল থেকে ফরমালিন অনেকটাই দূর করা সম্ভব।এই প্রসঙ্গে কোঝিকোড়ের সিনিয়র প্যাথলজিস্ট, অনকোপ্যাথোলজি বিশেষজ্ঞ, ডাঃ নীনা ম্যাম্পিলি বলেন,“আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা একটি খাবার হল ফল। পুষ্টির ভাণ্ডার হলেও কিন্তু এই খাবারেই থাকতে পারে ‘ফরমালিন’ নামক বিষাক্ত রাসায়নিক যা সহজে কেউ ধরতে পারবেন না সাদা চোখে। তাই সতর্ক হওয়া জরুরি। সামান্য কিছু উপায়েই ফল অথবা মাছ কিন্তু ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব।”এখন প্রশ্ন হল কীভাবে ফল ফরমালিন মুক্ত করবেন? আদৌ কি এই প্রক্রিয়া এতটাই সহজ? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিনিগার ও জলের মিশ্রণে ১৫ মিনিট ফল বা সবজি ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফরমালিনই দূর হয়ে যায়।ভিনিগার হাতের কাছে না থাকলে ফল খাওয়ার আগে সামান্য লবণ জলেও ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন।এতে ফলের ফরমালিন দূর হবে বেশ অনেকখানি। শুধু ফল নয়, সবজি ও মাছের মতো বেশ কিছু খাদ্য সামগ্রীতেও ফরমালিন যোগ করা হয়। পরিষ্কার জলে প্রায় ১ ঘণ্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।
গবেষণা বলছে, ফরমালিন দেওয়া মাছ লবণ মেশানো জলে টানা ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফরমালিনের মাত্রা কমে যায়। শুধু তাই নয়, প্রথমে চাল ধোয়া জলে ও পরে সাধারণ জলে ফরমালিনযুক্ত মাছ ধুয়ে নিলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়।
– তাসফিয়া আলম